মানুষকে শ্রেণিতে বিভাজনের প্রধান হাতিয়ার ধর্ম

সৈয়দা মহসিনা ডালিয়া

 

মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, ভারত, আফ্রিকার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় শুধু প্রার্থনা, তীর্থ, উৎসব, অক্ষাংশ, কিংবা কেবল ধর্মমতের জন্য লাখ লাখ মানুষকে পুড়িয়ে, গুলি করে, ধর্ষণ-নিপীড়ন করে মারা হয়েছে।

শিয়া-সুন্নি-কুর্দি থেকে শুরু করে, হিন্দু-মুসলিম, খ্রিস্টান–ইহুদি–বৌদ্ধ সব ধর্মেই ভেতরে-বাইরে একাধিক বিভাজন, প্রতিযোগিতা, ‘আমার ধর্ম সেরা–তোমারটা ভ্রান্ত’ এই মনোভাবেরই চর্চা।

পৃথিবীতে আনুমানিক ৪২০০টি ধর্ম রয়েছে, অথচ সবাই নিজের ধর্ম ছাড়া ৪১৯৯টি ধর্মকে ভিত্তিহীন বা ‘ভুল’ মনে করে। তাই ধর্ম মানেই বিভাজন, বিভক্তি, সন্দেহ, বিদ্বেষ “তুমি হিন্দু, আমি মুসলমান, আমার বিশ্বাস ঠিক, তোমারটা ভুল।”

ধর্ম মানুষকে ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে দেয় না; বরং শ্রেণি, গোষ্ঠি, দল, জাতীয়, সামাজিক ‘প্রতিপক্ষ’ তৈরি করে। ধর্মবৈরিতা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, জাতিগত নিপীড়ন, নির্বিচার হত্যা, মানবাধিকারের ছিন্ন-চিত্র সব বানানো হয়েছে ধর্মের নামে, বিশুদ্ধতা, স্বর্গ, ঈশ্বরের ত্যাগ-খাতিরে।

বস্তুত, মানুষের জন্য ধর্ম এই নীতিতে মানবতার চর্চা হয় না, হয় ধর্ম প্রতিষ্ঠার নামে মানুষের নিঃশেষ স্বপ্ন, সম্ভাবনা, চিন্তাশীলতা। আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে জন্মাই, আমাদের প্রথম পরিচয় মানুষ তাতে জাত, ধর্ম, ভাষা, রং নেই।

এই মানুষ হবার প্রতিযোগিতা, সৎ থাকার সংগ্রাম, বিতর্ক পেরোবার সাহস সবই ধর্মমতের, বর্ণবিভাজনের সামনে চুপসে যায়।

এখনও আমাদের ‘মানুষ’ হবার আগেই ‘ধর্মান্ধ’ হওয়া শেখানো হয়। দয়া করে আগে মানুষ হতে দিন, এরপর চাইলে ধার্মিক হোন not the other way around.

সমাজ, রাষ্ট্র, আইন, শিক্ষা সব জায়গায় প্রথম চরিত্র হোক মহান মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা, মুক্তচিন্তা, ন্যায়, উদারতা। ধর্ম শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি তার আগে, ওপর, বাইরে–মানুষের বাঁচা, চিন্তা, নিরাপত্তার বিষয়টাই সবচেয়ে জরুরি।

ধর্ম নয়, মানুষ এটাই সভ্যতা, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের আসল সংজ্ঞা।