ইসলাম পুরুষতন্ত্রের ধর্ম, নারীর জন্য শুধুই অবহেলা ও অসম্মান

সৈয়দা মহসিনা ডালিয়া

 

পুরুষের অধিকার, সুবিধা, স্বাধীনতা, বিচার সমস্ত মানবাধিকার ইসলামে শুধু পুরুষের সম্মুখে উন্মুক্ত। নারীর জীবন, স্বাধীন চিন্তা, যৌনতা, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, সম্পত্তি সব কিছু নিয়ন্ত্রণে, সীমাবদ্ধতায়, অর্ধেক-অধিকারে, পুরুষতান্ত্রিক আত্মমর্যাদায় বন্দি।

বিয়ের সিদ্ধান্ত, তালাকের মুক্তি, সন্তানের অভিভাবকত্ব, সম্পত্তির উত্তরাধিকার সবখানেই নারীকে অর্ধেকেরও কম অধিকারদানে ইসলামের জঞ্জাল ভেসে বেরায়। এমনকি নাম, পরিচয়, পোশাক, হাসি, মতামত সবকিছুতেই নারীর স্বাধীনতার চরম সংকোচ। পুরুষতান্ত্রিকতার ফাঁদে ধর্মের নামে নারীকে ঘরের গল্প, শালীনতা, পর্দা, লজ্জা আর আত্মত্যাগে আটকে রাখাই ইসলামিক সমাজের “শুদ্ধতা”।

মসজিদ, মাদ্রাসা, ধর্মীয় সমাবেশ, সামাজিক আসরে নারী অংশগ্রহণ নিন্দিত, সন্দেহজনক তথা গোপন। শিক্ষার অধিকার, নেতৃত্বের সম্ভাবনা, কর্ম-অভিযান সব জায়গাতেই ইসলাম নারীর বিরুদ্ধে আইনের শিকল দিয়ে রেখেছে। নারী যেন সন্তানের কারখানা, পুরুষের সুখের দাসী, সমাজ ও ধর্মের সেবাদাসী এটাই ইসলামের বিবর্তিত মানসিকতা।

কোরান, হাদিস, শরিয়ত, ইসলামী আইন নিয়ে আর আলোচনা করার সুযোগ নেই। এখানে শুধু পুরুষের অধিকার, দম্ভ আর ক্ষমতার ঠেলা নারীর জীবনে অনিশ্চয়তা, বঞ্চনা, অপমান। যারা নারীবাদী, স্বাধীনচেতা, সাহসী তাদের ঠাঁই নেই ইসলামের ধর্মতন্ত্রে; বরং তাদেরকে “অধর্ম”, “পাপ”, “ফেতনা”, “গুনাহ” বলে একঘরে করে দেওয়া হয়।

ইসলাম নারীদের জন্য নয় শুধুই পুরুষের, শুধুই শাসকের, শুধুই নিয়ন্ত্রকের ধর্ম। এই ধর্মে নারীর উন্নয়ন, স্বপ্ন, মুক্তি, অধিকার সবই জন্মের আগেই বন্দি। সমাজ, পরিবার, ধর্ম সব শ্রেণি মিলেও নারীর ব্যথাকে স্বীকার করে না, সম্মান দেয় না, মনুষ্যত্বে স্থান দেয় না।

সময় এসেছে, ধর্মের নামে নারীকে অবজ্ঞা করার, পিছিয়ে পড়ার অপসংস্কৃতি প্রশ্ন করা, সাহসিক প্রতিবাদ করা, নতুন প্রজন্মের সামনে নারীস্বাধীনতার গল্প লিখে যাওয়ার।